রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইন্টারনেট সেবা তদন্ত করছে বিটিআরসি

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:৩৪  
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় থ্রিজি ও ফোর-জি মোবাইল ডাটা সেবা বন্ধের নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)। সংস্থার একটি ‍উচ্চ পর্যায়ের কারিগরি দল শুক্রবার থেকে অকুস্থল পরিদর্শন করে এই তদন্ত অভিযান চালাচ্ছে। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত  কক্সবাজারে কার্যক্রম চালাবে তারা।  তদন্ত শেষে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসবে প্রতিনিধি দলটি। আর ঢাকা ফিরে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেবেন। ইতিমধ্যেই দলটি শিবিরগুলোর পাশাপাশি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নেটওয়ার্ক কতদূর পাওয়া যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে সীমান্ত বরাবর বেস স্টেশন বা মোবাইল টাওয়ার পরিদর্শন করেছেন বলেও জানা গেছে। সূত্রমতে, বিটিআরসি’র এই দলটি কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জ্যামার স্থাপন করবে। একই সঙ্গে টেলিকম অপারেটরদের স্থানীয় এজেন্টদেরকে শরণার্থীদের মধ্যে সিম কার্ড বিক্রি বন্ধ করতে নির্দেশনা দেবে। পাশাপাশি ওই অঞ্চল থেকে অননুমোদিত এজেন্টদের উচ্ছেদ করার জন্য তারা স্থানীয় পুলিশকেও অনুরোধ করবেন। জানাগেছে, অকূস্থলে কারিগরি তদন্ত শেষে এ ব্যাপারে কক্সবাজারের উপ-কমিশনার (ডিসি) ও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবে বিটিআরসি’র প্রতিনিধি দলটি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই দলের একজন সদস্য জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সীমাবদ্ধ করা খুবই শক্ত। এ কারণে তারা রোহিঙ্গাদের জন্য পৃথক বিধি প্রণয়নের জন্য সরকারকে অনুরোধ করবেন। আর এই দলটির সুপারিশের ভিত্তিতেই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে উখিয়া’র দায়িত্বরত পুলিশের অতিরিক্ত সুপারিনটেন্ডেন্ট আদনান তাইনান। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিটিআরসি সব মোবাইল অপারেটরকে রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় থ্রিজি ও ফোর-জি সেবা বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও পুরো এলাকাটিতেই টেলিকম সেবা বিঘ্নিত হয়। তবে নির্দেশনা জারির পরও কিছু ক্যাম্পে থ্রিজি ও ফোর-জি সেবা পাওয়া যাওয়ার অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের সংগঠনের সদস্যরা। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশপাশের এলাকাগুলিতে স্থানীয় ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের ব্যবসা হঠাৎ চাঙ্গা হয়ে ওঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।